রাজনীতি

‘ভার্চুয়াল সভা করে আর সংক্রমণ বাড়াবেন না দিদিমণি’,মমতাকে কটাক্ষ অধীরের

শহিদ দিবসে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভার্চুয়াল সভা রাজ্যে করোনা সংক্রমণ বাড়াতে পারে। আশঙ্কা প্রকাশ করে তৃণমূল সুপ্রিমোকে কটাক্ষ করলেন লোকসভায় কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী।

সন্দেহ নেই একুশের সমাবেশ মানে তৃণমূলকর্মীদের আবেগের কর্মসূচি। ১৯৯৩ সালে যুব কংগ্রেস সভাপতি থাকার সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সচিত্র ভোটার পরিচয়পত্রের দাবিতে রাইটার্স অভিযান ডেকেছিলেন। সেই কর্মসূচিতেই তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের পুলিশের গুলিতে কলকাতার রাজপথে মৃত্যু হয়েছিল ১৩ জন যুব কংগ্রেস কর্মীর। যদিও তৃণমূল তৈরি হওয়ার পর থেকে এই কর্মসূচি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরই কর্মসূচি হয়ে গিয়েছে।

সোমবার রাতে একটি ভিডিও বার্তায় ঝাঁঝালো সুরেই তৃণমূলনেত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, “যে সময়ে সংক্রমণ বাড়ছে বলে আপনার সরকার লকডাউন করতে বাধ্য হচ্ছে, বলা হচ্ছে বাংলায় গোষ্ঠী সংক্রমণ ছড়ানোর মতো ভয়ঙ্কর অবস্থা তৈরি হয়ে গিয়েছে, তখন এই ভার্চুয়াল সভার নামে মোচ্ছবটা বন্ধ করুন দিদিমণি।”

একুশে জুলাইয়ের তদন্ত নিয়েও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান অধীর। বহরমপুরের সাংসদ বলেন, “আপনি বলেছিলেন ক্ষমতায় এলে একুশে জুলাইয়ের ঘটনার তদন্ত হবে, বিচার হবে, শাস্তি হবে। আপনি ১১ সালে ক্ষমতায় এসে একটা কমিশন করেছিলেন। তার রিপোর্ট এখনও পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি। শাস্তি তো দূরের কথা, যাঁরা সেদিন অভিযুক্ত ছিলেন তাঁদের আপনি নেতা, মন্ত্রী, সান্ত্রী বানিয়েছেন।”

যদিও অধীরবাবুর এ হেন বক্তব্য নিয়ে তৃণমূল নেতারা বলছেন, “আমরা নিয়ম মেনেই ভার্চুয়াল বক্তৃতা শোনাব। কিন্তু অধীরবাবুর দল আর সিপিএম মিলে রাজ্যে যেমন হইহট্টগোল পাকাচ্ছে, এক জায়গায় জড়ো হয়ে পুলিশের সঙ্গে কুস্তি করছে সেটাই বরং রাজ্যে সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে।” এক নেতা আরও বলেন, “দেখলেন তো, ক’দিন আগে সিটুর নেতা, প্রাক্তনমন্ত্রী অনাদি সাহু কেমন সামাজিক দূরত্বের বিধি না মেনে আন্দোলন করছিলেন। দশ দিন বাদে দেখা গেল তিনি এবং তাঁর স্ত্রী করোনা আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন!”

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close